বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মানুষ মানুষের জন্য জিবন জিবনের জন্য ভুপেন হাজারিকার গানটা যেন জিবনে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রমান করলো পাবনার অন্যতম সামাজিক সংগঠন ইয়েলো ল্যাম্পের সদস্যরা। এই সংগঠনটি সড়ক দূর্ঘটনা রোধকল্পে দীর্ঘ কয়েক বছর স্বেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছে শুধু তাই নয় দেশের ক্লান্তিলগ্নে বেশ কিছু উল্লেখ যোগ্য কাজের মাধ্যমে ইতিমধ্যে তারা পাবনা সহ সারা দেশে তাদের কাজের মাধ্যমে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। ১১ নভেম্বর ২০২৪ সন্ধ্যাটাও এমনই একটি ঘটনার খবরে পেয়ে ছুটে যান ঈশ্বরদী। সেখানে গিয়ে জানা যায় ভাষানব্লক সিরাজদীখান মুন্সিগঞ্জের নূরবক্স হাওলাদার এর ছেলে মিজানুর হাওলাদার ঈশ্বরদী রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অসাবধানবশত ট্রেন দুর্ঘটনায় দুটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়,অতঃপর স্থানীয় লোকজন প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করালে সেখানে কর্তব্যরত ডাঃ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। প্রায় চারমাস উক্ত হাসপাতালে অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন মিজানুর রহমান হাওলাদার ,হাসপাতালের চিকিৎসকদের সুচিকিৎসা ও স্টাফদের আন্তরিকতা এবং পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সমাজসেবা অধিদপ্তর এর সহযোগিতায়, ইয়েলো ল্যাম্প সদস্যদের তত্ত্বাবধায়নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছেন মিজানুর হাওলাদার। এবার মিজানের বাড়ি ফেরার পালা ইয়েলো ল্যাম্প এর সদস্যরা তাকে পৌঁছে দিল তার মায়ের কাছে।
শুধু তাই নয় সমাজ সেবার পাশাপাশি বিভিন্ন মানুষের দেওয়া অর্থ তার মায়ের হাতে তুলে দেন। মিজান এর মা ইয়েলো ল্যাম্পের সদস্যদের ধরে
কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি বলেন আজকের সমাজে আমার ছেলের জন্য তোমরা যা করলে আল্লাহ তোমাদের উত্তম পুরুস্কার দিবেন আমি সবসময় তোমাদের জন্য দোয়া করি। পাবনা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ রাশেদুল কবির বলেন আমরা সবসময় সরকারের পক্ষ থেকে মানুষের জন্য কাজ করি কিন্তু মিজান কে এভাবে সহযোগিতায় পাশে থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত। তিনি ইয়েলো ল্যাম্পের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।
ইয়েলো ল্যাম্প এর সভাপতি শহিদুল্লাহ উজ্জল বলেন আমাদের সংগঠনের মুল এজেন্ডা জনসেবা করা যে যেমন যার যার অবস্থন থেকে মানুষের কল্যানে কাজ করতে পারে করবে শুধু আমি নয় আমার সংগঠনের কার্যক্রম দেখে মানুষজন ভালো কাজের প্রতি আগ্রহী এবং আমাদের সংগঠন এর সাথে যুক্ত হন। আমরা বিস্বাস করি মানব সেবার মাঝেই মানুষের প্রকৃত কল্যান রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা যেন এমন ভালো কাজ করতে পারি। সেজন্য সকলের ঐকবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করি। আমরা আজ খুবই আনন্দিত মিজান এক্সিডন্ট হওয়ার পর ওর মাকে ফোনে বলেছিলাম আপনার এক ছেলে অসুস্থ হয়েছে তো কি হয়েছে চিন্তা করবেন না এখানে আপনার আরো ১০ টি ছেলে আছে, মিজান সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমরা পাশে থকবো আশা করি আমরা তার পাশে থাকতে পেরেছি এজন্য শুকরিয়া। আপনারাও আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
Leave a Reply